• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ০৪:০২ পূর্বাহ্ন

এডিশনাল ডিআইজি আপেল মাহমুদের বদলি স্থগিত : কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পে আনন্দের বন্যা : আতঙ্কে দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ীরা


প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ২৩, ২০২৫, ৯:৫৬ অপরাহ্ন / ২৭০
এডিশনাল ডিআইজি আপেল মাহমুদের বদলি স্থগিত : কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পে আনন্দের বন্যা : আতঙ্কে দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজারঃ ট্যুরিস্ট পুলিশের এডিশনাল ডিআইজি আপেল মাহমুদকে হেডকোয়ার্টারে বদলির আদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিত হওয়ায় কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ব্যাপক স্বস্তি ও আনন্দের প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশের হেড অফিস থেকে একটি লিখিত গেজেট (প্রজ্ঞাপন) জারি করা হয়েছে বলে দায়িত্বশীল প্রশাসনিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

গেজেটে বলা হয়েছে, পর্যটকদের নিরাপত্তা, চলমান কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা এবং কক্সবাজারসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্রগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে আপেল মাহমুদ আপাতত কক্সবাজারেই দায়িত্ব পালন করবেন।
কেন বদলি স্থগিত—ভেতরের হিসাব

সূত্র জানায়, কক্সবাজার দেশের সবচেয়ে বড় ও সংবেদনশীল পর্যটন কেন্দ্র হওয়ায় এখানে ট্যুরিস্ট পুলিশের নেতৃত্বে হঠাৎ পরিবর্তন হলে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, পর্যটক সেবা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা ছিল। বিশেষ করে পর্যটনের মৌসুম সামনে রেখে অভিজ্ঞ নেতৃত্ব বজায় রাখাকে জরুরি মনে করেন ঊর্ধ্বতন মহল।

ট্যুরিস্ট পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা ও পর্যটন শিল্পের বর্তমান চাহিদা বিবেচনায় নিয়েই সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে।

পর্যটন খাতে আনন্দের বন্যাঃ বদলি স্থগিতের লিখিত আদেশ প্রকাশের পর কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল মালিক, রিসোর্ট উদ্যোক্তা, ট্যুর অপারেটর, পরিবহন খাতের প্রতিনিধি ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে। তাঁদের মতে, আপেল মাহমুদের নেতৃত্বে ট্যুরিস্ট পুলিশের কার্যক্রম আগের তুলনায় আরও দৃশ্যমান ও কার্যকর হয়েছে।

পর্যটন সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যবসায়ী জানান, পর্যটক হয়রানি কমানো, সৈকত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার, বিদেশি পর্যটকদের সহায়তা এবং অননুমোদিত কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে ট্যুরিস্ট পুলিশ আগের চেয়ে বেশি সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে।

একজন ট্যুর অপারেটর বলেন, এই বদলি যদি কার্যকর হতো, তাহলে চলমান শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ার ঝুঁকি ছিল। স্থগিত হওয়ায় আমরা স্বস্তিতে।

আতঙ্কে দুর্নীতিবাজ ও অনিয়ম সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরাঃ অন্যদিকে, পর্যটন খাতের একাধিক সূত্র দাবি করেছে, বদলি স্থগিতের খবরে সবচেয়ে বেশি আতঙ্কিত হয়েছে কিছু দুর্নীতিবাজ ও অনিয়মে জড়িত ব্যবসায়ী চক্র।

অভিযোগ রয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ট্যুরিস্ট পুলিশের কঠোর নজরদারির কারণে অবৈধ গাইড ব্যবসা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, পর্যটক হয়রানি, অনুমোদনহীন ট্যুর প্যাকেজ এবং অনৈতিক সুবিধা আদায়ের পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছিল।

একজন পর্যটন সংগঠনের নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আইনের প্রয়োগ শক্ত হলে যাদের ব্যবসা টিকে থাকে না, তারাই স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তিতে পড়ে।

নীতিনির্ধারণী মহলের ইতিবাচক মূল্যায়নঃ ট্যুরিস্ট পুলিশের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, বদলি স্থগিতের এই সিদ্ধান্ত দেশের পর্যটন নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি সরকারের ইতিবাচক মনোভাবের প্রতিফলন। এটি মাঠ পর্যায়ে কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব ধরে রাখার একটি বার্তাও দিচ্ছে।

পর্যটন নিরাপত্তায় স্পষ্ট বার্তাঃ বিশ্লেষকদের মতে, লিখিত গেজেট জারির মাধ্যমে বদলি স্থগিতের সিদ্ধান্ত কক্সবাজারসহ দেশের অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা, সুশাসন ও পর্যটকবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক বার্তা দিয়েছে।

পর্যটন শিল্প সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশাঃ এই সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদে পর্যটকদের আস্থা বৃদ্ধি, অনিয়ম দমন এবং কক্সবাজারের পর্যটন ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।