শিরোনাম

অর্থসহ নিয়মিত কুরআন অধ্যয়নে আমার জীবন সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে : অভিনেত্রী নুর বুখারী

268049_120নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘এখন আমার জীবন সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে। প্রায় প্রতিদিন অর্থসহ পবিত্র কুরআন পড়ি। অনেক মানুষই সাধারণত বলেন যে- প্রত্যেকের উচিৎ নামাজ এবং কুরআন আরবিতেই পড়া। এতে আমাদের ধর্ম অনেক বেশি জটিল হয়ে পড়ে। যদিও ইসলাম খুবই সহজ-সরল জীবন ব্যবস্থা। উর্দূতে অথবা ইংরেজিতেও কুরআন পড়া উচিৎ; যাতে জীবন পরিচালনার জন্য স্রষ্টার নির্দেশনা বুঝা যায়। আমি অনুবাদসহ কুরআন পড়ি; সুতরাং আমি কুরআনের শিক্ষা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করতে পারি।’

পাকিস্তানি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির ‘ললিউডে’ দর্শক নন্দিত তারকা নুর বুখারী দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন। নুর বুখারী একাধারে জনপ্রিয় অভিনেত্রী, নির্মাতা ও মডেল। ৩৫ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী শোবিজ জগতকে বিদায় জানিয়েছেন, নিয়মিত হিজাব পরছেন, হিজাব ছাড়া ঘর থেকে বাইরে যাচ্ছেন না। তার হিজাব পরা ছবি দেখে অনেক ভক্ত চমৎকৃত হয়েছেন।

নূর বলেন, ‘আমি আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ। কারণ তিনি আমাকে সঠিক পথ দেখিয়েছেন এবং নিজের ধর্ম ইসলামের সঙ্গে আমি আরো বেশি সম্পৃক্ত হতে পেরেছি। ধর্ম নিয়ে কাজ করব আমি। ধর্মের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে ভবিষ্যতে শো ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান করতেও প্রস্তুত আছি। আমি মনে করি যে কোনো পেশার মাধ্যমেই খ্যাতি ও শ্রদ্ধা অর্জন করা যায় এবং আমি আমার কঠোর পরিশ্রম ও সততার কারণেই ললিউডে এই জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পেরেছি। তবে আমি ভবিষ্যতে কোনো সিনেমা বা টিভি শো করব না। ইতোমধ্যে আমি চলমান সকল প্রকল্প থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছি এবং এতে আর অংশ নিচ্ছি না।’

নূর বুখারী বলেন, ‘আমি এমন একটি সময় অতিক্রম করছিলাম; যেটি মানসিক আঘাত এবং অন্যান্য কষ্টের সঙ্গে জড়িত। আমি এ সম্পর্কে আর ভাবতে চাই না। ইসলামের পথে আসতে পেরে আমি নিজেকে ভাগ্যবান বলে মনে করছি। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে মহান আল্লাহর সঙ্গে ঘনিষ্ট হওয়ার বিষয়টি আপনি চাইলেই বাছাই করে নিতে পারেন না, বরং আল্লাহই আপনাকে পছন্দ করে নেন। আমি আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ যে তিনি আমাকে পছন্দ করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমি একজন পরিবর্তিত নারী। আমার দর্শনসমূহও পরিবর্তিত হয়েছে। আমার পরিশ্রম আমাকে আল্লাহর কাছাকাছি নিয়ে এসেছে এবং আমি আমার এই রূপান্তর সবার সঙ্গে ভাগ করে নেয়ার পাশাপাশি এই পথ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে চাই। বিশেষত ইসলামিক প্রক্রিয়ার মধ্যে ইসলাম গ্রহণ সম্পর্কে শিখব।’

 ৯০ এর দশকে শিশু শিল্পী হিসেবে অভিনয়ে আসেন নূর। ‘পেয়ার করা তো নাহি ডরনা’ (১৯৯২), ‘উরুসা’ (১৯৯৩) এবং ‘জান্নাত’ (১৯৯৩) সহ বেশ কয়েকটি ছবিতে শিশু শিল্পী হিসেবে কাজ করেছিলেন। ২০০০ সালে শান শহিদের বিপরীতে মুজে চান চাহিয়া ছবিতে অভিনয় করে পাকিস্তানের শীর্ষ অভিনেত্রী হিসেবে আবির্ভূত হন। নূর নাট্য শিল্পের সঙ্গে জড়িত উফ ইয়াহ লারিকিয়ান এবং মেরে আগনে মেইন এর মতো প্রকল্পগুলোতে কাজ করেছেন। ‘মর্নিং উইথ হাম’, ‘ফির তানহা’সহ বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় টিভি শো উপস্থাপনা করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তার শেষ ছবি মুক্তি পায় ২০১৬ সালে। এতে তার সহ-অভিনেতা ছিলেন সাবেক স্বামী ওয়ালি হামিদ। ‘ভাই লোগ’, ‘আগ কা দরিয়া’, ‘তেরে পেয়ার মে’, ‘বিল্লি’, জিল-ই-শাহ’, ‘কব আও গে’র মতো জনপ্রিয় ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি।

Be Sociable, Share!
বিভাগ: ইসলাম ও জীবন

এখনো কোন মন্তব্য করা হয়নি.

মন্তব্য করুন

*