শিরোনাম

মূলধন ঘাটতি পূরণে এক মাস সময়

274264_110নিজস্ব প্রতিবেদক: নতুন প্রজন্মের ব্যাংক ফারমার্স ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি পূরণে এক মাসের সময় দেয়া হচ্ছে। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে তাদের মূলধন ঘাটতি মেটাতে হবে। এ জন্য পরিচালকদের কমপক্ষে ২০০ কোটি টাকার জোগান দিতে হবে। অন্যথায় বাংলাদেশ ব্যাংক পরবর্তী ব্যবস্থা নিবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, অতীতে আইসিবি ইসলামী ব্যাংককে (সাবেক ওরিয়েন্টাল ব্যাংক) মূলধন ঘাটতি পূরণে অর্থ জোগান দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই সময় একটি দেউলিয়া হওয়া ব্যাংককে এভাবে অর্থের জোগান দেয়া আইনগতভাবে ঠিক ছিল না। এ কারণে এবার ফারমার্স ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি মেটানোর প্রশ্নে বাংলাদেশ ব্যাংক সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান মতে, গত সেপ্টেম্বর শেষে ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদ বেড়ে হয়েছে ৫ হাজার ১২১ কোটি টাকা। এর বিপরীতে ৫১২ কোটি টাকার মূলধন সংরক্ষণের কথা ছিল। কিন্তু এ সময়ে ব্যাংকটি মূলধন সংরক্ষণ করেছে ৪৩৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ আলোচ্য সময়ে ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতি হয়েছে ৭৪ কোটি টাকা।

এ ছাড়া ব্যাংকটির তীব্র তারল্য সঙ্কট দেখা দিয়েছে। গত এক বছর যাবৎ বাংলাদেশ ব্যাংকে নগদ জমা (সিআরআর) রাখতে পারছে না। ক্রমগতভাবে সিআরআর ঘাটতির ফলে ইতোমধ্যে ব্যাংকটির সাড়ে ১৮ কোটি টাকার জরিমানা করা হয়েছে, যার ৭ কোটি ১৮ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক তদন্তে বলা হয়েছে, ক্রমবর্ধমান অনিয়ম প্রতিরোধ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উন্নতি এবং ঋণ নিয়মাচারে শৃঙ্খলা আনয়ন অত্যাবশ্যক হয়ে পড়ায় আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার লক্ষ্যে গত বছরের ১৩ জানুয়ারি ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একজন পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়। কিন্তু এর পরেও ব্যাংকটির পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হচ্ছে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক বছর যাবৎ ফারমার্স ব্যাংকে তীব্র তারল্য সঙ্কট রয়েছে। বর্তমানে এ সঙ্কট তীব্র আকার ধারণ করেছে। মূল তারল্য পরিমাপক সূচক তথা বাংলাদেশ ব্যাংকে রক্ষিত নগদ জমা (সিআরআর) সংরক্ষণে ব্যাংকটি ক্রমাগতভাবে ব্যর্থ হচ্ছে। যেমন গত এপ্র্রিল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ব্যাংকটি একটানা সিআরআর সংরক্ষণে ব্যর্থ হচ্ছে। এ ছাড়াও গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ব্যাংকটি বেশ কয়েক দিন এসএলআর সংরক্ষণেও ব্যর্থ হয়েছে। ভবিষ্যতে এ সঙ্কট প্রকট আকার ধারণ করার আশঙ্কা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, নিয়মের বাইরে বেশি ঋণ দিয়ে এসব ঋণ আদায় করতে পারছে না ব্যাংকটি। ফলে ব্যাংকটিতে বড় ধরনের তারল্যসঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে। এ দিকে এখন আর আমানত সংগ্রহে সাড়া পাচ্ছে না ফারমার্স ব্যাংক। গত সেপ্টেম্বর শেষে ফারমার্স ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়ে হয়েছে ৩৭৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ, বিতরণ করা ঋণের ৭ দশমিক ৪৫ শতাংশই খেলাপি। মার্চ-জুন সময়ে ব্যাংকটি খেলাপি গ্রাহকদের থেকে মাত্র সাত কোটি টাকা আদায় করেছে। শীর্ষ ১০ খেলাপি গ্রাহকের কাছেই ব্যাংকটির পাওনা ১৩৪ কোটি টাকা।
এসব কারণে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এ কে এম শামীমকে কেন অপসারণ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে গত ২৭ নভেম্বর কারণ দর্শানো নোটিশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। চিঠিতে এমডিকে জবাব দিতে সাত দিনের সময় দেয়া হয়েছিল। গতকাল সাত দিনের বেঁধে দেয়া সময় শেষ হয়েছে।

একই সাথে চেয়ারম্যান মহীউদ্দীন খান আলমগীর ফারমার্স ব্যাংক ছেড়ে যাওয়ার একদিনের মাথায় গত সপ্তাহে নতুন পর্ষদের কয়েকজনকে ডাকে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকটিকে টিকিয়ে রাখতে দিকনির্দেশনা দেয়ার লক্ষ্যে বুধবার বিকেলে পরিচালনা পর্ষদের সব সদস্যের সাথে বৈঠক করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ওই বৈঠকে মূলধন ঘাটতি মেটাতে তিন মাস সময় পেল ফারমার্স ব্যাংক। এ সময়ের মধ্যে ব্যাংকটিতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে, তারল্য সঙ্কট দূর করতে হবে, গ্রাহকের আস্থায় যে চিড় ধরেছে তা ফেরাতে হবে। এক কথায়, আগামী তিন মাসের মধ্যে ব্যাংকটিকে ঘুরে দাঁড় করানোর চ্যালেঞ্জ দেয়া হয়েছে পুনর্গঠিত পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে। অন্যথায়, বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দেয়।

এ দিকে তীব্র তারল্য সঙ্কট ও মূলধন ঘাটতি মেটাতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যাংকটির পুনর্গঠিত পর্ষদকে উদ্যোগ নেয়ার মৌখিক নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, চলমান সঙ্কট কাটাতে কমপক্ষে ২০০ কোটি টাকার জোগান দিতে হবে পরিচালকদের। একই সাথে সেপ্টেম্বরে যে ৭৪ কোটি টাকার মূলধন ঘাটতি হয়েছে, তা আগামী ৩১ ডিসেম্বরের প্রতিবেদনে পরিচালকদের অর্থ দিয়ে সমন্বয় করতে বলা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি উন্নতি না হলে পরে পদক্ষেপ নেয়া হবে ব্যাংকটির বিরুদ্ধে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে পর্ষদ চেষ্টা করছে চলমান সঙ্কট কাটাতে। তারা বড় অঙ্কের ডিপোজিট আনার চেষ্টা করছে।

Be Sociable, Share!
বিভাগ: অর্থনীতি

এখনো কোন মন্তব্য করা হয়নি.

মন্তব্য করুন

*