শিরোনাম

বাংলাদেশকে ঋণের টাকা দিতে দেরি করছে ভারত-চীন!

250845_160নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রতিবেশী ভারতের দেয়া লেটার অব ক্রেডিট বা এলওসির টাকা এবং চীনের ঋণের টাকা ছাড় হয় ঢিমেতালে। অন্যান্য দাতাগোষ্ঠী বা সংস্থা বিশেষ করে বিশ্বব্যাংক, এডিবি, জাইকা, আইডিবির ঋণের চুক্তির ছাড়করণের হার ২০ শতাংশের বেশি। কিন্তু ভারত ও চীনের এ হার ১০ শতাংশের নিচে বলে জানান অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব কাজী শফিকুল আযম। আর চীনের রাষ্ট্রদূত মা মিংকিয়াং জবাবে বলেন, চীন সরকার কোনো ঋণের টাকা বাকি রাখতে চায় না। আর আমার আমলে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বেড়েছে ৩০ শতাংশ।

এ দিকে বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তির অবকাঠামো উন্নয়ন এবং টেলিযোগাযোগ খাতের আধুনিকায়ন-চীন এ দুই প্রকল্পে তিন হাজার ৭০ কোটি টাকার সমমূল্যের মার্কিন ডলার নমনীয় ঋণ সহায়তা দিচ্ছে।
শেরেবাংলা নগরের ইআরডি সম্মলেন কে গতকাল বিকেলে চীন ও সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) মধ্যে এ চুক্তি স্বারিত হয়। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ইআরডি সচিব কাজী শফিকুল আযম ও চীনের পে রাষ্ট্রদূত মা মিংকিয়াং চুক্তিতে স্বার করেন।

জানা যায়, তথ্যপ্রযুক্তি নেটওয়ার্ক অবকাঠামো উন্নয়নে এক হাজার ২৫২ কোটি ৪৮ লাখ ডলার দিচ্ছে চীন। আর টেলিযোগাযোগ আধুনিকায়নে দিচ্ছে এক হাজার ৮১৭ কোটি ২৮ লাখ টাকা। ঋণের সুদ হার ২ শতাংশ। ৫ বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ মোট ২০ বছরে এ দুইটি ঋণের টাকা পরিশোধ করতে হবে। টাকা দেবে চায়না এক্সিম ব্যাংক।

ঋণখেলাপি ঠেকাতে কঠোর হওয়ার নির্দেশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জালিয়াতি বন্ধে নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য ব্যাংক চেক ছাপাতে হবে
অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

ঋণখেলাপিদের ঠেকাতে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সাথে ব্যাংক চেক জালিয়াতি বন্ধে নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য চেক ছাপানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুষ্ঠেয় ব্যাংকার্স সভায় এ নির্দেশ দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ফজলে কবির।
এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহা: রাজী হাসান, এস কে সুর চৌধুরী, এস এম মনিরুজ্জামান, নির্বাহী পরিচালক আবদুর রহিম, শুভঙ্কর সাহা, ব্যাংকারদের শীর্ষ সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আনিস এ খানসহ সব ব্যাংকের এমডি ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে এবিবি চেয়ারম্যান আনিস এ খান সাংবাদিকদের বলেন, গভর্নর খেলাপি ঋণ ঠেকাতে কঠোর হওয়ার নির্দেশ নিয়েছেন। একই সাথে ব্যাংকের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষার্থীর বিষয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ না করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, এর ফলে যে কোনো বিষয়ে পড়াশোনা করে শিক্ষার্থীরা ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

বৈঠক শেষে ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী বলেন, কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপকে একচেটিয়া ঋণ দিতে নিষেধ করা হয়েছে। একই সাথে ঋণ বিকেন্দ্রীকরণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কারণ কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপকে একচেটিয়া ঋণ দিলে তাতে খেলাপি হওয়ার আশঙ্কা থাকে বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে আধুনিক ব্যাংক চেক নকল হওয়া ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যেমন আধুনিক এ চেকের নির্ধারিত কিছু নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যেগুলো পরিবর্তন ও নকল করা প্রায় অসম্ভব। চেক ছাপানোর সময় এই নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যগুলো সঠিকভাবে চেকে সন্নিবেশিত করা হয়েছে কি না তা সুনিশ্চিত করতে ব্যাংকারদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। হবে। একই সাথে যারা স্বার করতে পারেন না সেসব নিরর ব্যক্তি কিভাবে চেকের মাধ্যমে লেনদেন করতে পারেন, সেই বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া ব্যাংকার্স সভায় ইরানের ব্যাংকগুলোর সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। দীর্ঘ দিন পর গত বছরের ১৬ জানুয়ারি ইরানের ওপর থেকে নিষেধজ্ঞা তুলে নেয় জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাহী নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ জন্য ইরানের সঙ্গে ব্যাংকিং সম্পর্ক স্থাপন ঝুঁকিপূর্ণ। তবে ইরানের সঙ্গে বাংলাদেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্য চলমান রয়েছে। নস্ট্রো অ্যাকাউন্ট না খুলে রিলেশনশিপ ম্যানেজমেন্ট অ্যাপ্লিকেশন (আরএমএ) স্থাপন করে কিভাবে লেনদেন করা যায় সেই বিষয়ে আলোচনা করতে বলা হয়েছে।

এডিপি প্রকল্প বাস্তবায়নে বিঘ্নতায় দাতাদের দুষলেন পরিকল্পনামন্ত্রী দুই মাসে অগ্রগতি ৫.১৫ শতাংশ

দেশের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বা এডিপির প্রকল্প বাস্তবায়নে আশানুরূপ অগ্রগতি নেই। আগের বছরগুলোর চেয়ে এখন বাস্তবায়ন হার মাস অনুযায়ী কমছে। বিশেষ করে বিদেশী অর্থায়নের প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি কম। গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নের চূড়ান্ত হার হলো ৯০ শতাংশ, যা বিগত পাঁচ বছরের মধ্যে কম। আর এ কম অগ্রগতির জন্য পরিকল্পনামন্ত্রী ও সচিবেরা দাতাদের দুষলেন। মন্ত্রী বলেন, তাদের অর্থ ছাড়ে সময় নেয়া ও বাণিজ্যিক চুক্তিকে প্রলম্বিত করায় প্রকল্পের কাজ সঠিক সময়ে শুরু করা যাচ্ছে না।

শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মলেন কক্ষে গতকাল অনুষ্ঠিত ১৫ মন্ত্রণালয় ও ১৬ বিভাগের সাথে এডিপি পর্যালোচনাকালে এ কথা বলেন মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। পরে মন্ত্রী বৈঠক সম্পর্কে সাংবাদিকদের জানান। এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, অর্থ ব্যয়কেই এডিপির অগ্রগতির শতকরা হার ধরা হয়।
পরিকল্পনা কমিশনের তথ্যানুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরে এডিপির বাস্তবায়ন হার ৮৫.০৬ শতাংশ। ডাক ও তার, রেলপথ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রকল্প সাহায্য ব্যবহারে গত বছর সর্বনি¤েœœ রয়েছে। এ বছর দুই মাসে আর্থিক অগ্রগতি ৫.১৫ শতাংশ হলেও পিএ ব্যবহার মাত্র ৩.৬৭ শতাংশ। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, রেলপথ ও সেতু বিভাগের বাস্তবায়ন হার ১ শতাংশও হয়নি। এরা কোনো অর্থ ব্যয় করতে পারেনি। প্রকল্প সাহায্য ব্যবহারের সর্বনি¤œতা এডিপি বাস্তবায়নে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, গত অর্থবছর সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির সামগ্রিক অগ্রগতির হার মোট সংশোধিত বরাদ্দের ৯০ শতাংশ ও প্রকল্প সাহায্য ৭৯ শতাংশ। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এডিপি বরাদ্দের পরিমাণ ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ দক্ষতার সাথে এডিপি বাস্তবায়নে ভালো করছে। তারপরও প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রয়োজনে বিভিন্ন প্রকল্পের মধ্যে সমন্বয় করা হবে। এ জন্য সচিবসহ আরো সদস্য নিয়ে কমিটি করে প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। যথাযথভাবে ঠিকাদারি কোম্পানিকে তদারকি ও তাদের কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে। মন্ত্রী বলেন, এবার প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস ধরে বৃষ্টি হচ্ছে। যার কারণে এবার আট লাখ টন চাল কম উৎপাদন হবে। পরিপূর্ণভাবে এডিপি বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের চেষ্টা করছি।

বিশ্বের অর্থনৈতিক অবস্থা সামগ্রিকভাবে ভালো আছে, এমনটা জানিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, এখন কোথাও মন্দাভাব নেই। এ বছর একটা ভালো বছর। আমাদের এ সুযোগ নিতে হবে।
এডিপি বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কে কামাল বলেন, সভায় মন্ত্রণালয়গুলো আশ্বস্ত করেছে, প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে উন্নয়নের অভীষ্ট লক্ষ্যে যেতে পারব। মাঝে মধ্যে আলোচনা করা হবে, আলোচনা করলে অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ ত্বরান্বিত হবে।

এডিপি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তিনি একটি বিদেশী পত্রিকায় সম্প্রতি প্রকাশিত বাংলাদেশের এডিপি পাকিস্তানের চেয়ে বেশি এ বিষয়টি উল্লেখ করেন। বলেন, বঙ্গবন্ধুর সময় তিনি পেয়েছিলেন ভঙ্গুর আর বিধ্বস্ত একটি দেশ। এখন আমাদের সুবর্ণ সময় এবং গৌরবের সময়। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা অবশ্যই আমরা দেখতে পারব। এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, অর্থ ব্যয়কেই এডিপির অগ্রগতির শতকরা হার ধরা হয়।

Be Sociable, Share!
বিভাগ: অর্থনীতি

এখনো কোন মন্তব্য করা হয়নি.

মন্তব্য করুন

*