শিরোনাম

নতুন ব্যাংকের বিষয়ে আবারো বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘না’

indexনিজস্ব প্রতিবেদক: নতুন ব্যাংকের অনুমোদন না দেয়ার পক্ষে আবারো অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশে বিদ্যমান আর্থসামাজিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে এ পর্যায়ে নতুন করে বেসরকারি খাতে ব্যাংক প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেয়া যুক্তিসঙ্গত হবে না। ‘দি সিটিজেন ব্যাংক লিমিটেড’ নামে একটি প্রস্তাবিত ব্যাংকের বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে মতামত চাওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে গত সপ্তাহে এ অভিমত দেয়া হয়েছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

জানা গেছে, মোহাম্মদ ইকবাল নামে এক ব্যক্তি নিজেকে প্রস্তাবিত সিটিজেন ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে উল্লেখ করে এই ব্যাংক অনুমোদন দেয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কাছে একটি আবেদন করেন গেল নভেম্বর মাসে। এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে মতামত চাওয়া হয়। এরই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন করে বেসরকারি খাতে ব্যাংক প্রতিষ্ঠান অনুমতি না দেয়ার বিষয়ে যৌক্তিকতা তুলে ধরেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই মতামত ইতোমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়কে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

নতুন করে ব্যাংক অনুমোদন না দেয়ার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতকে আরো সুশৃঙ্খল করার উদ্দেশ্যে ২০১৩ সালে ৯টি ব্যাংকের অনুুমোদন প্রদান করা হয়। কিন্তু এই ব্যাংকগুলোর মূলধন পর্যাপ্ততার হার, সম্পদের ওপর মুনাফার হার ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, এসব ব্যাংকের ইকুইটি মূলধনের ওপর মুনাফার হারও সন্তোষজনক-পর্যায়ে উন্নীত হয়নি। প্রথম কয়েক বছরের মধ্যেই কয়েকটি নতুন ব্যাংকের বিরূপ শ্রেণীকরণ ঋণের হার বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এগুলোর মধ্যে নতুন দু’টি ব্যাংকের পরিস্থিতি নাজুক হয়ে পড়ায় তাদের ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।’

উল্লেখ্য,এই দুই ব্যাংকের মধ্যে একটি হচ্ছে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ-দলীয় এমপি ড.মহীউদ্দীন খান আলমগীরের প্রতিষ্ঠিত ‘ফারমার্স ব্যাংক’। অন্যটি ‘এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক’। এটির উদ্যোক্তাও সরকার-সমর্থক একজন অনাবাসী ব্যবসায়ী।

নতুন ব্যাংকগুলো লাইসেন্সের শর্ত পরিপালন করছে না বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভাষ্যে তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, নতুন ব্যাংকগুলো তিন বছরের মধ্যে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) ইস্যু, মোট ঋণ ও অগ্রিমের অন্তত ৫ শতাংশ কৃষি ও পল্লী ঋণ খাতে বিনিয়োগ করার ইত্যাদি শর্ত প্রদান করা হলেও ব্যাংকগুলো তা পরিপালন করতে সক্ষম হয়নি। এখন এই প্রেক্ষাপটে ও বিরাজমান আর্থসামাজিক পরিস্থিতিতে আরো নতুন বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের লাইসেন্স প্রদান আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সহায়ক হবে না বলে ইতঃপূর্বে বাংলাদশ ব্যাংক মতামত ব্যক্ত করেছিল। ’

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সর্বশেষ বলা হয়, “ইতোমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ‘বাংলা ব্যাংক লিমিটেড’ ও ‘পিপলস ব্যাংক লিমিটেড’ নামে দু’টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের লাইসেন্স প্রদানের সুপারিশ করা হয়েছে। এই দু’টি ব্যাংকের বিষয়ে ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১-এর লাইসেন্স প্রদানসংক্রান্ত বিধিবিধান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুুসৃত নিয়ম অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে সার্বিক বিবেচনায় এ পর্যায়ে আরো একটি নতুন ব্যাংক অনুমতি দেয়ার বিষয়ে ওপরের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নেয়ার যৌক্তিকতা রয়েছে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই পর্যবেক্ষণ ও মতামতের বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করা হলে কেউ কথা বলতে রাজি হননি। তবে একটি সূত্র জানায়, নতুন ব্যাংক দেয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক। এখানে মন্ত্রণালয় বা বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু করণীয় নেই।

২০১৩ সালের আগ পর্যন্ত দেশে মোট ব্যাংক ছিল ৪৭টি। এর মধ্যে ছিল রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক ছয়টি, দু’টি বিশেষায়িত ব্যাংক, বেসরকারি মালিকানাধীন ৩০টি বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং বিদেশে নিবন্ধিত ৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংক। এরপর ২০১৩ সালে তিনটি এনআরবি (অনিবাসী বাংলাদেশী কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ব্যাংক)সহ মোট নয়টি ব্যাংকের লাইসেন্স প্রদান করা হয়। এসব ব্যাংকের লাইসেন্স প্রদানের সময় দেশের চলমান আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ‘এ পর্যায়ে আর কোনো অনিবাসী বা বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের অনুমতি দেয়া যুক্তিসঙ্গত হবে না। ২০১৩ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩৩৮তম বোর্ড সভায় এ মত দেয়া হয়েছিল।

Be Sociable, Share!
বিভাগ: অর্থনীতি

এখনো কোন মন্তব্য করা হয়নি.

মন্তব্য করুন

*