শিরোনাম

আরো আড়াই লাখ টন চাল আমদানির অনুমোদন

263000_148নিজস্ব প্রতিবেদক: খাদ্য সঙ্কট মোকাবেলায় আরও আড়াই লাখ টন চাল আমদানি করা হচ্ছে। এর মধ্যে সরকার থেকে সরকার (জি-টু-জি) পদ্ধতিতে থাইল্যান্ড থেকে দেড় লাখ টন নন-বাসমতি সিদ্ধ চাল আমদানি করা হবে। আর জাতীয় উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ১৭টি প্রতিষ্ঠান আমদানি করবে এক লাখ টন নন-বাসমতি সিদ্ধ চাল। আড়াই লাখ টন চাল আমদানিতে মোট ব্যয় হবে প্রায় এক হাজার ১৭ লাখ কোটি টাকা।

আজ বুধবার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এ বিষয়ে দুটি পৃথক ক্রয়প্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির আহ্বায়ক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের এতথ্য জানান।

তিনি বলেন, জি-টু-জি পদ্ধতিতে থাইল্যান্ড থেকে আমদানি করা প্রতি টন চালের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৬৫ ডলার। এই দরে দেড় লাখ টন চাল আমদানি করতে মোট খরচ বাংলাদেশী টাকায় ৫৭৮ কোটি ৯২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় অনুমোদনের জন্য এই ক্রয় প্রস্তাবের সার-সংক্ষেপে বলা হয়েছে, চালের জরুরি প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনায় নিয়ে থাই কর্তৃপক্ষকে দেড় লাখ টন নন-বাসমতি সিদ্ধ চাল এলসি খোলার ৯০ দিনের মধ্যে সরবরাহের সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে।

এতে আরো বলা হয়, সরকারি পর্যায়ে খাদ্যশস্য ক্রয়ের চুক্তি হলে তা সরবরাহ পাওয়ার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা থাকে না। বর্তমান পর্যায়ে সরকারি ভাণ্ডারে খাদ্য মজুদ বাড়িয়ে সরবরাহ নিশ্চিত করা, জনসাধারণের মধ্যে খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি সম্প্রসারণের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তাবলয় সুসংহত করা, সরকারের নির্ধারিত বিতরণ চ্যানেল নির্বিঘ্ন পরিচালনা করা এবং খাদ্যশস্যের বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখার জন্য জরুরি সরকারি পর্যায়ে খাদ্যশস্য আমদানির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

এদিকে অপর এক প্রস্তাবনায় জাতীয় উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে এক লাখ টন নন-বাসমতি সিদ্ধ চাল আমদানি করার অনুমোদন দিয়েছে কমিটি বলে জানান মোস্তাফিজুর রহমান।

তিনি বলেন, জাতীয় উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে বৈদেশিক উৎস থেকে আমদানিতব্য প্যাকেজ-১ এর আওতায় এক লাখ টন চাল আমদানি করা হবে।

সূত্র জানায় প্রতি টন ৪৩ হাজার ৭২০ টাকা থেকে ৪৫ হাজার ২৭০ টাকা হারে দেশের ৩৮টি কেন্দ্রে (লটে) দুটি প্রতিষ্ঠান এই চাল সরবরাহ করবে। এক লাখ টন চাল আমদানিতে মোট ৪৩৮ কোটি ২২ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে।

খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বন্যা ও ব্লাস্ট রোগের কারণে এ বছর চাহিদার তুলনায় চাল কম উৎপাদন হওয়ায় দেশে চালের বাজারে অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। এ অবস্থায় জি-টু-জি পদ্ধতিতে চাল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। ভিয়েতনাম থেকে আড়াই লাখ টন চাল সরবরাহ প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। কম্বোডিয়ার কাছ থেকে আড়াই লাখ টন চাল আমদানির চুক্তি হওয়ার পর ঋণপত্র খোলা হয়েছে। এ ছাড়া মিয়ানমার থেকে এক লাখ টন চাল আমদানির চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক ২৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে তিন শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত সরকারের গুদামে তিন লাখ ৯৬ হাজার টন চাল এবং এক লাখ তিন হাজার টন গমসহ মোট খাদ্যশস্য মজুদের পরিমাণ চার লাখ ৯৯ হাজার টন।

Be Sociable, Share!
বিভাগ: অর্থনীতি

এখনো কোন মন্তব্য করা হয়নি.

মন্তব্য করুন

*