শিরোনাম

আগ্রাসী ব্যাংকিং : ৩০ ব্যাংককে কঠোর নির্দেশ

indexনিজস্ব প্রতিবেদক: বৈদেশিক মুদ্রায় আগ্রাসী ব্যাংকিং বন্ধে ৩০টি ব্যাংককে কঠোর নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা মেনেই অফশোর ব্যাংকিং (ওবিইউ) বিনিয়োগ করতে হবে। অর্থের সংস্থান করে বৈদেশিক মুদ্রায় বিনিয়োগ ও করপোরেট লেনদেনে সতর্ক হতে বলা হয়েছে ব্যাংকগুলোকে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অমান্য করলে ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অমান্য করে কোনো ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রাবাজার অস্থিতিশীল করার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনে ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী শাখা (অথরাইজড ডিলার) বন্ধ করে দেয়া হবে।

গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে ৩০টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের বৈঠকে এমনই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এসকে শুর চৌধুরী, নির্বাহী পরিচালক কাজী ছাইদুর রহমানসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ব্যাংকগুলোর শীর্ষ নির্বাহী ও তাদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নানাভাবে কিছু ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রাবাজার অস্থিতিশীল করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা হলো কোনো ব্যাংক আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের দামের চেয়ে এক টাকার অতিরিক্ত দাম নির্ধারণ করতে পারবে না। কিন্তু কিছু ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ নির্দেশনা অমান্য করে করপোরেট লেনদেনের নামে গ্রাহকের কাছ থেকে বেশি দরে ডলার কিনছে।

আবার ওই ডলার সঙ্কটে পড়া ব্যাংকগুলোর কাছে বেশি দামে বিক্রি করে মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে। এতে টাকা ও ডলারের বিনিময় হারের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। যেমন গতকাল আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলারের দর ছিল ৮১ টাকা ৮০ পয়সা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি ডলার ৮২ টাকা ৮০ পয়সা হওয়া উচিত নয়। কিন্তু কোনো কোনো ব্যাংক ৮৪ টাকা পর্যন্ত ডলার লেনদেন করেছে। মুদ্রাবাজারে এ অস্থিতিশীলতা বন্ধ করার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, করপোরেট লেনদেনের নামে বেশি দামে ডলার বেচাকেনা পরিহার করতে হবে। গতকালের বৈঠকের পর কোনো ব্যাংকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ দিকে কোনো কোনো ব্যাংক অর্থের সংস্থান না করেই পণ্য আমদানির জন্য এলসি খুলছে। কেউ কেউ স্বল্প মেয়াদি তহবিল সংস্থান করে দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগ করছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রায় বিনিয়োগ ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। বৈদেশিক মুদ্রায় দীর্ঘ মেয়াদি বিনিয়োগ ঝুঁকি পরিহার করার জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কিছু ব্যাংক অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে অর্থাৎ গ্রাহকের কাছ থেকে ডলার কিনে ওবিইউতে বিনিয়োগ করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বর্তমানে ওবিইউতে বিনিয়োগ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪০ কোটি ডলার, যেখানে ২০২ কোটি ৫০ লাখ ডলারই অভ্যন্তরীণ (অন শোর) বাজার থেকে ধার করা হয়েছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বেড়ে যাচ্ছে।

একই সাথে ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অমান্য করে বেশি হারে ঋণ দিচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা হলো ঋণ আমানতের অনুপাত ৮৫ শতাংশের বেশি হবে না। কিন্তু কোনো কোনো ব্যাংকের এ হার বেড়ে ৯৫ শতাংশে উঠেছে। এভাবে চলতে থাকলে ব্যাংকগুলোর তারল্য সঙ্কট বেড়ে যাবে। এ পরিস্থিতি এড়াতে বিনিয়োগ নামিয়ে আনার জন্য ব্যাংকগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

Be Sociable, Share!
বিভাগ: অর্থনীতি

এখনো কোন মন্তব্য করা হয়নি.

মন্তব্য করুন

*