শিরোনাম

পৃথক সংঘর্ষে মিয়ানমারে ৩০ রোহিঙ্গা নিহত

ডেস্ক রিপোর্ট ॥ মাসব্যাপী উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে সপ্তাহ খানেক আগে থেকে কিছুটা শান্ত হয়ে উঠেছিল মিয়ানমারের মংডু অঞ্চল। আবারও রবিবার সকালে ও সোমবার বিকেলে পৃথক সংঘর্ষে মিয়ানমারে ৩০জন রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে। গত ১০ অক্টোবর থেকে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমান ও রাখাইনদের মধ্যে সংঘর্ষ চলে আসছিল। দেশটির প্রশাসন চালিয়েছে ব্যাপক ধরপাকড়। বিজিপি চৌকিতে হামলা পরবর্তী রোহিঙ্গা-মিয়ানমার বর্ডারগার্ড পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে অক্টোবরে নিহত হয়েছে ৩৯জন। বিজিপি সদস্যসহ এ পর্যন্ত মিয়ানমারে ৬৯জন নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় বাংলাদেশ সীমান্তে কোন ধরনের প্রভাব পড়েনি। সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

১০ অক্টোবর থেকে বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্ত বাণিজ্যের কার্যক্রম সপ্তাহ খানেক বন্ধ থাকলেও ১৬ অক্টোবর থেকে আমদানি পণ্যের চালান আসছে এদেশে। তবে ট্রানজিট পয়েন্ট বন্ধ রয়েছে এখনও। এ ঘটনার ধারাবাহিকতায় রবিবার সকালেও পূর্বাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে সেদেশের সেনা-রোহিঙ্গা সংঘর্ষে ২৮ জন এবং সোমবার বিকেলে ২জন রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে বলে ওপার থেকে পাওয়া একাধিক সূত্রে জানা গেছে। তবে সে দেশের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে ২৮জন নিহতের খবর দিয়েছে।1479155676_86

দেশটির প্রশাসন দাবী করছে-অস্ত্রধারী কয়েকজন সেনা সদস্যের উপর হামলা চালালে তারাও পাল্টা জবাব দেয়। মিয়ানমারে বসবাসকারী একজন রোহিঙ্গা নেতা মুঠোফোনে জানিয়েছেন, কোন ধরণের উস্কানি ছাড়াই একটি হেলিকপ্টার থেকে অজস্র গুলি ছুড়েছে। জালিয়ে দেয়া হয়েছে ৪টি পাড়া। পুড়ে ছাই হয়েছে অন্তত ৪শতাধিক রোহিঙ্গা মুসলিমদের বসতগৃহ।

সূত্র জানায়, রাখাইন রাজ্যের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় শনিবার জাম্বুনিয়া, রাউবাইল্যা ও কুলারবিলসহ চারটি গ্রাম জালিয়ে দেয় সেনা বাহিনী। এতে আগুনে পুড়ে কঙ্কাল হয়েছে নারী-শিশুসহ বৃদ্ধ লোকজন। রবিবার সকালে বলি বাজার এলাকার শিক্ষিত ও মাতব্বর-সর্দার অন্তত ২৫ রোহিঙ্গাকে মিটিং আছে বলে ক্যাম্পে ডেকে নিয়ে যায় বিজিপি। সেখানে একটি স্কুলে তাদের বন্দী করে রাখে। পরবর্তীতে হামলাকারী বলে সনাক্ত করে তাদের সম্মুখে দা-রড ও অস্ত্র রেখে ছবি করা হয়। নির্দেশনার জন্য ওই ছবি পোস্ট করা হয়েছে উর্ধতন মহলের কাছে। উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বন্দী করা রোহিঙ্গা নেতাদের সেনা সদর দপ্তরে (টানাসোখ) পাঠিয়ে দেয়ার নির্দেশ আসে। সেনা সদস্যরা বলিবাজার এলাকায় প্রবেশ করে যাকে যে অবস্থায় পেয়েছে গুলি করে মেরেছে বলে সূত্রটি দাবী করেছে।

সূত্র আরও জানায়, পাড়ায়-মহল্লায় সেনা বাহিনী ঢুকেছে খবর পেয়ে যে যেদিকে পারে পুরুষরা পালিয়েছে। সোমবার সকালে তারা দেখতে পেয়েছে ধানক্ষেতে পড়ে রয়েছে রোহিঙ্গাদের লাশ আর লাশ। ওই স্বজনদের (মৃতদেহ) কবর দেয়ার সাহসও তাদের নেই বলে জানায় দেশটিতে বসবাসকারী রোহিঙ্গারা। তারা মুঠোফোনে আরও জানায়, সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের মাতৃভূমি বার্মা (মিয়ানমার) থেকে বের করে দিতে সরকার এভাবে শুদ্ধি অভিযান চালাচ্ছে। রাখাইন রাজ্যে বসবাসকারী রোহিঙ্গা মুসলমানদের সেদেশের নাগরিক হিসেবে স্বীকার করে না দেশটির সরকার। ওই রোহিঙ্গা মুসলমানরা বাংলাদেশ থেকে সেখানে গেছে বলে দাবী করে আসছে। গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সুচির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসবার পরও রোহিঙ্গা পরিচয়টি অস্বীকার করেন।

রবিবার থেকে মংডু নাইনছং, কিয়ারিপ্রাং, ওয়াব্বে, নাকফুরা, কাউয়ারবিল, বলিবাজার, চাম্বালা, জাম্বুনিয়া, কুয়ারবিল, সাহাব বাজার ও কোয়াংচিবং এলাকায় পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে বলে তথ্য মিলেছে।

উল্লেখ্য, ৯ অক্টোবর ভোর রাতে মিয়ানমারে মংডুতে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নিরাপত্তা চৌকিতে হামলা এবং অস্ত্র লুট ঘটনার পরবর্তী রাখাইন-রোহিঙ্গা মুসলিমদের মধ্যে সংঘাত চলছে। সেদেশের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ধরপাকড় শুরু করেছে দোষী ও সন্দেহজনক ব্যক্তিদের। মংডু কাউয়ারবিলের তিনটি চৌকিতে হামলা ও অস্ত্র লুটের ঘটনায় বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপ আরএসও’কে দায়ী করে দেশটির সরকার বলছে, এ ঘটনায় ৬৩টি অস্ত্র ও ১০হাজার গুলি লুট হয়েছে। সূত্রে প্রকাশ, মিয়ানমারে বসবাসরত যে সব রোহিঙ্গা পরিবার থেকে তাদের সন্তান বা স্বজনরা আরাকান বিদ্রোহী গ্রুপে (আরএসও) যোগ দিয়েছে, ওইসব পরিবারের প্রতি মিয়ানমার সরকার নজরদারী বৃদ্ধি করেছে। কক্সবাজার ও টেকনাফ বিজিবি’র কর্মকর্তাগণ জানান, মিয়ানমার অভ্যন্তরে হামলা ও হামলা পরবর্তী সেনা অভিযান সেটি দেশটির অভ্যন্তরিণ বিষয়। এতে বাংলাদেশ সীমান্তে কোথাও কোনো প্রভাব পড়েনি। বিজিবি জওয়ানরা সতর্কাবস্থায় রয়েছে।

Be Sociable, Share!
বিভাগ: অপরাধ (ক্রাইম), গ্রাম গঞ্জের খবর, প্রধান খবর - ২, সারা বাংলার খবর

এখনো কোন মন্তব্য করা হয়নি.

মন্তব্য করুন

*