শিরোনাম

তামিমের লাশ গ্রহণ করবেনা পরিবারের লোকজন ; স্বজন পরিচয় দিতে ঘৃণা বোধ করছেন

মোহাম্মদ রণি শেখ : জঙ্গী বিরোধী অভিযানে নিহত তামিম চৌধুরীর লাশ গ্রহণ করতে চান না কেউই। শুধু তামিমের বাড়ির লোকজন নন, আশপাশের বাড়িসহ গ্রামের অন্যরাও তামিম বিষয়ে কিছু বলতে রাজি নন।তািমিমের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের পৈত্রিক বাড়িতে খোজ খবর নিতে গিয়ে দেখা যায় তামিমকে তাদের স্বজন পরিচয় দিতেও ঘৃনাবোধ করছে তারা।

তামিমের গ্রামের বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার দুবাগ ইউনিয়নের বড়গ্রাম। এক পাশে সুতারকান্দি স্থলবন্দর। গ্রামের বাকি তিন দিক ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত। বড়গ্রামের মাঝামাঝি তামিমদের বাড়ি। দাদার আমলে নির্মিত পাকা বাড়ি। সামনে বিরাট পুকুর, শানবাঁধানো ঘাট আর বড় উঠান পেরিয়ে মাঝখানের বাড়িটি তামিমদের। তামিমের বাবার নাম শফিকুল ইসলাম চৌধুরী ওরফে সোয়া মিয়া।jmb 2

বাড়ির লোকজন জানান, শফিকুল ইসলাম চট্টগ্রাম শিপইয়ার্ডে চাকরি করতেন। তামিম বাবার কর্মস্থল চট্টগ্রামে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। এরপর পুরো পরিবার চলে যায় কানাডায়। সেই থেকে কানাডা নিবাসী তাঁরা। বাড়ির লোকজন শুনেছেন, তামিম বিবাহিত ও তিন সন্তানের জনক। তামিম কোথায় বিয়ে করেছেন, দেশে না বিদেশে; তাঁর স্ত্রী-সন্তানেরা কোথায়, সেটা বাড়ির লোকজন জানেন না। সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় তামিমের নানার বাড়ি। তবে ঠিক কোন গ্রামে, সে তথ্য কেউ জানাতে পারেনি।

গ্রামের বাড়িতে তামিমের দুই চাচা পরিবার নিয়ে থাকেন। ছোট চাচা নজরুল ইসলাম চৌধুরী গত বৃহস্পতিবার মারা যান। শনিবার দুপুরে  তামিমের এক চাচাতো ভাইকে লাশ গ্রহণ করার কথা জিজ্ঞেস করলে সে লাশ গ্রহণতো পরের কথা তাকে দেখতেও চাননা বলে দ্রুত চলে যান।   পরিবারের অন্যকোনো পুরুষ সদস্যের দেখা  না মেললেও আঙ্গুরা খাতুন নামের তামিমের এক চাচি বলেন, ‘এ বাড়িতে তার বিয়ে হয়েছে ২৩ বছর । তার আগেই তামিমরা চট্টগ্রামে চলে যায়। সেখান থেকে কানাডা। ২১ বছর আগে তামিম একবার দেশে এসেছিল বলে শুনেছিলেন তারা। এখন তার নাম শুনলেও তাদের ভয় লাগে।’

তামিমের আরেক চাচা কয়লা ব্যবসায়ী নুরুল ইসলামের সাথে ফোনে কথা বললে তিনি জানান, কানাডা যাওয়ার পর থেকে তামিমের বাবার সঙ্গে তাঁর আর কোনো যোগাযোগ নেই।  তামিমকে ভাতিজা বলতে তাঁর ঘৃণা হয়।

গ্রামের মানুষ বলছেন, জঙ্গিসংশ্লিষ্টতায় নাম আসা ও গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর এলাকার মানুষ প্রথম তামিমকে চিনেছেন। এর আগে তামিমের নাম বা তাঁর পরিবারকে গ্রামের অনেকেই চিনতেন না।

বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চন্দন কুমার চক্রবর্তী জানান , তামিমের গ্রামের বাড়ির কেউ তাঁর মরদেহ গ্রহণ করবেন না, বিষয়টি গ্রামে গিয়ে পুলিশ জেনেছে। আর মরদেহ গ্রহণের জন্য কানাডা থেকে পরিবারের কেউ পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। ##

Be Sociable, Share!
বিভাগ: অপরাধ (ক্রাইম), প্রধান খবর - ১, সারা বাংলার খবর

এখনো কোন মন্তব্য করা হয়নি.

মন্তব্য করুন

*