শিরোনাম

চোখ বাঁধার ৫৪ ধারা থাকবে না ; পরোয়ানা ছাড়া গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ-সংক্রান্ত ফৌজদারি কার্যবিধির রায় সর্বোচ্চ আদালতে বহাল

আজকের বিডি ন্যাশনাল ডেস্ক: ৫৪ ধারা ও ১৬৭ ধারার অপপ্রয়োগ রোধে এগুলো সংশোধনের জন্য উচ্চ আদালতের রায় একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। হাইকোর্টের সেই রায়ের বিরুদ্ধে বিএনপি আমলে যে আপিল করা হয়, সেটি বর্তমান সরকারও সচল রেখেছিল। এই পটভূমিতে সংবিধানপ্রণেতাদের অন্যতম ড. কামাল হোসেন সংবাদ মাধ্যমের একটি সাক্ষাৎকারে ক্ষমতাসীন দলের উদ্দেশ্যে বলেন তাদের স্মরণ করিয়ে দিতে হয় যে এই আপিলটি বিএনপি করেছিল। এটাকে জোরালোভাবে রক্ষা করার চিন্তা তাদের করা উচিত নয়। দেশে স্বৈরতন্ত্রের সময় যেভাবে চলেছে, তাকে এখন সুরক্ষা দেওয়ার কোনো কারণ নেই। পাকিস্তান আমলে আমরা বলতাম ওনাদের ভুয়া কথা বলে ধরে রাখা হয়েছে। ১৯৮৩ সালে এরশাদের সময় শেখ হাসিনাসহ আমাদের ভুয়া কথায় ধরে নেওয়া হলো। দেশে স্বৈরতন্ত্র থাকলে মানুষ বেআইনি গ্রেপ্তারের সম্মুখীন হয়, অযথা হয়রানির শিকার হয়। আবার প্রতিকারের পথগুলোও প্রশস্ত থাকে না। আমরা যদি গণতন্ত্র চাই, তাহলে আইনের শাসনকে অবশ্যই রক্ষা করতে হবে। স্বৈরশাসনের সংস্কৃতি আমরা পুনর্বাসিত করতে পারি না। একটা সমাজে দীর্ঘদিন স্বৈরশাসন চললে কিছু সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে, গত ৪৫ বছরে সব সময় গণতন্ত্র ও আইনের শাসন থাকেনি। ১৯৭৫ সালের পরে সংবিধান সামরিক শাসনের অধীন থেকেছে। আজ তো সংবিধানের সঠিক ব্যাখ্যা করতে হবে। কারও ব্যক্তিস্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করতে হলে তার ও তার পরিবারের কাছে একটা সংগত ব্যাখ্যা দিতে হবে। তাকে বলতে হবে, ভাই তোমাকে নিয়ে যাচ্ছি এই কারণে। তাকে জানাতে হবে, আমি অমুক থানার অমুক, আমার সঙ্গে আসুন। এখন কেউ যদি বলেন যে এ কথা বলা যাবে না, তাহলে দেশের নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন হবে, তাঁরা কিন্তু না জেনেই বলেন। কারণ, এটা কোনো যুক্তি নয়। Dr-Kamal-Hossain ৩

প্রতিবেদক: রিমান্ড বা গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে সোপর্দ করার বিষয়ে নিম্ন আদালতের একটা বিরাট ভূমিকা আইনে স্বীকৃত। ইদানীং কিছু রায়ের আলোকে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় গাইডলাইন বা নির্দেশনা দিচ্ছেন।

. কামাল হোসেন: এটা খুবই যুক্তিসংগত কথা। এ ধরনের সুযোগ খোলা আছে। এই মামলায় উচ্চ আদালত নিজেরাই বুঝেছেন কীভাবে আইনের অপব্যাখ্যা করা হয়েছে। কীভাবে বাংলাদেশে সংবিধানে স্বীকৃত মানুষের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এই ইতিহাসের ভুক্তভোগী আমরা স্বাধীনতার আগেও এবং পরেও। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর তো জানা আছে যে কীভাবে গ্রেপ্তারের আইনের অপব্যবহার করে চোখ বেঁধে মানুষকে ধরে নেওয়া যায়। বর্তমান মন্ত্রিসভার কয়েকজন তো আমার বাসা থেকেই গ্রেপ্তারের স্বাদ পেয়েছেন। মেননও তার একজন। কোনো কারণ দেখানো হয়নি। বলেছিলাম, কী করছেন? উত্তর এসেছে, আপনারা ষড়যন্ত্র করছেন, দেশদ্রোহিতা করছেন। কোনো যুক্তিসংগত কারণ ছিল না বলেই ১৪ দিন পরে ছাড়তে হয়েছে। বর্তমান আইনমন্ত্রীর বাবা সিরাজুল হক আমাদের প্রিয় বাচ্চু ভাই, সৈয়দ ইশতিয়াকসহ ১৩ জনকে আটক করা হয়েছিল কোনো কারণ ছাড়াই। আদালতে নেওয়ার সময় কানে এসেছে ওরা শকুন। সেই দিন তো আমরা পার করে এসেছি।

মানুষ আটকের ক্ষমতা রাষ্ট্রের নিশ্চয় থাকবে। কিন্তু চোখ বেঁধে নিয়ে যাওয়ার ৫৪ ধারা তো ৫৪ ধারা নয়। ৫৪ ধারা দুশ বছর চলেছে। সেটা তো চোখ বেঁধে তুলে নিয়ে যাওয়ার ধারা ছিল না। সুতরাং এর ব্যত্যয় ঘটেছে বলেই আজ সর্বোচ্চ আদালত এগিয়ে এসেছেন। একটা যুক্তিসংগত গ্রহণযোগ্য ও মানবিক ৫৪ ধারা থাকবে, চোখ বাঁধার ৫৪ ধারা থাকবে না। আদালত এটাই বলেছেন।

প্রতিবেদক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রী পূর্ণাঙ্গ রায়ের আলোকে আইন সংশোধনের কথা বলেছেন।

. কামাল হোসেন: আলহামদুলিল্লাহ। আমি বিশ্বাস করতে চাই যে তাঁরা এটা কোনো অজুহাত হিসেবে বলছেন না, আন্তরিকভাবেই বলছেন।

প্রতিবেদক: কিন্তু সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আপিল বিভাগের রায় একটি আইন কি না এবং সেটা মেনে চলার বাধ্যবাধকতা আছে কি না?

. কামাল হোসেন: অবশ্যই। এটা যুক্তির কথা যে ৫৪ ও ১৬৭ ধারার বিষয়ে আমরা একটি আইন পাচ্ছি। এবং যেহেতু প্রধান বিচারপতি পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের ব্যাপারে সময়সীমা বেঁধে দিয়ে বিধি চালু করেছেন, তাই আমরা খুব শিগগিরই আদালতের আইন বা তাঁদের রায় পাব। এক-দেড় বছর ঝুলে থাকবে এমন আশঙ্কা করি না। তদুপরি আমরা মন্ত্রীদের আশ্বস্ত করার সূত্রেই বলতে চাই, আসুন আমরা এখনই একটি গোলটেবিল সভার আয়োজন করি। সরকার পরিচালনা করতে গিয়ে যেসব বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে, সেটা আমরাও খতিয়ে দেখতে পারি। যুক্তিসংগত হলে তা আমরা মেনে নিয়ে সে অনুযায়ী সুপারিশ রাখতে পারি। সরকারকে ১০০ ভাগ সাহায্য করতে চাই। আমরা সবাই মিলে দেখতে পারি, একটি সভ্য রাষ্ট্রে কীভাবে গ্রেপ্তার ও রিমা‌ন্ডের ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয়। এটা এ দেশে সম্ভব। কারণ, এককালে আমরা এটা করে দেখিয়েছি। আপিল বিভাগ এমন কিছু করেননি, যা নতুন বা অভাবনীয়।

প্রতিবেদক: এত দিন তো রায়ের ওপর কোনো স্থগিতাদেশ ছিল না?

. কামাল হোসেন: না, ছিল না।

প্রতিবেদক: এখন আমরা যদি দ্রুত রায় পাই তাহলেও সেই দ্রুততায় আইন না-ও পেতে পারি। তাহলে রায় কার্যকর হওয়ার আশা করব কীভাবে?

. কামাল হোসেন: এখানে কোনো অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। আমরা এখানে ব্যবহার ও অপব্যবহার দুটোই তো দেখেছি। এই উপমহাদেশের উচ্চ আদালতগুলো এ বিষয়ে রায় দিয়েছেন। দশকের পর দশক আমরা গোটা উপমহাদেশে এর অনুশীলন দেখেছি। সুতরাং আমি তো এটা ভাবতেই পারি না যে কেউ ভাব নেবেন এই বলে যে, এটা নিয়ে ভাবতে বসে যেতে হবে। আগে হাইকোর্টের রায়ে ১৫ সুপারিশ আছে, সেগুলো শুনানিতে আলোচনায় এসেছে। ব্যক্তিস্বাধীনতা গণতন্ত্রের মুকুট। এটা তো কল্পনা করে খর্ব বা হরণ করা যাবে না। এটা খুবই পরিষ্কার একটি বিষয়। সর্বোচ্চ আদালত বলেছেন, মানুষের ব্যক্তিস্বাধীনতাকে খুশিমতো বঞ্চিত করা যাবে না। দেশরে বহুল প্রচারিত দৈনিক প্রথম আলোতে দেয়া এক সক্ষাতকারে তিনি এসব মত ব্যাক্ত করেণ। ##

পরোয়ানা ছাড়া গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ-সংক্রান্ত ফৌজদারি কার্যবিধির রায় সর্বোচ্চ আদালতে বহাল :

পরোয়ানা ছাড়া গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ-সংক্রান্ত ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ও ১৬৭ ধারা সংশোধনের নির্দেশনা দিয়ে প্রায় ১৩ বছর আগে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিলেন, তা বহাল রেখেছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত।আইনজীবীরা বলছেন, সর্বোচ্চ আদালতের এই রায়ের ফলে ৫৪ ও ১৬৭ ধারার অপপ্রয়োগ বন্ধ হবে। ৫৪ ধারায় কাউকে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে পুলিশ স্বেচ্ছাচার করতে পারবে না। আবার এই ধারায় গ্রেপ্তার কাউকে নিবর্তনমূলক আটকাদেশ দেওয়া যাবে না। ১৬৭ ধারায় রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ হবে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায়। জিজ্ঞাসাবাদের নামে কাউকে নির্যাতন করতে পারবে না পুলিশ।
হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল খারিজ করে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ মঙ্গলবার এই রায় দেন। আদালত বলেছেন, ৫৪ ও ১৬৭ ধারার কয়েকটি বিষয় সংবিধানের কয়েকটি অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় হাইকোর্ট কয়েক দফা সুপারিশ করেছিলেন। এ ক্ষেত্রে কিছু পরিবর্তন থাকবে। ৫৪ ও ১৬৭ ধারা প্রয়োগের বিষয়ে একটি নীতিমালা করে দেওয়া হবে।
হাইকোর্টের দেওয়া রায়ে নির্দেশনাগুলোর মধ্যে ছিল, ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার কাউকে নিবর্তনমূলক আটকাদেশ দেওয়া যাবে না। কাউকে গ্রেপ্তার করার সময় পুলিশ তাঁর পরিচয়পত্র দেখাতে বাধ্য থাকবে। গ্রেপ্তারের তিন ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিকে কারণ জানাতে হবে। ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হলে ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশক্রমে কারাগারের ভেতরে কাচ দিয়ে নির্মিত বিশেষ কক্ষে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। কক্ষের বাইরে তাঁর আইনজীবী ও নিকটাত্মীয় থাকতে পারবেন। জিজ্ঞাসাবাদের আগে ও পরে ওই ব্যক্তির ডাক্তারি পরীক্ষা করাতে হবে।
প্রায় দেড় যুগ আগের একটি ঘটনায় করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে  আপিল বিভাগের এই রায় দেওয়া হলো। রায়ের সময় আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা। রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ড. কামাল হোসেন, এম আমীর-উল ইসলাম, শাহদীন মালিক, ইদ্রিসুর রহমান, সারা হোসেন প্রমুখ।
রায়ের পর সন্তোষ প্রকাশ করে কামাল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, এটি একটি যুগান্তকারী রায়। এই রায়ের মধ্য দিয়ে গ্রেপ্তার, আটক, রিমান্ড ও জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রে মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হবে। তিনি বলেন, ঊনবিংশ শতাব্দীতে প্রচলিত অন্যায় গ্রেপ্তার, বেআইনি জিজ্ঞাসাবাদ, আটক ও অত্যাচারের ঔপনিবেশিক ও সংবিধানবিরোধী চর্চার অবসান ঘটিয়ে একবিংশ শতাব্দীর উপযোগী সাংবিধানিক সুরক্ষা প্রতিষ্ঠায় এই রায় বিশেষ অবদান রাখবে।
আমীর-উল ইসলাম বলেন, সরকারপক্ষের আপিল খারিজ হয়ে যাওয়ায় হাইকোর্টের নির্দেশনা ও আপিল বিভাগের রায়ের আলোকে সংশ্লিষ্ট আইনের সংশোধন আবশ্যক।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, মানুষের উপকারে ফৌজদারি কার্যবিধি যদি আরও সংশোধনের প্রয়োজন হয়, তাহলে তা করা হবে। আদালতের নির্দেশনা অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পাওয়ার আগে এ বিষয়ে মন্তব্য করা কঠিন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ৫৪ ধারা একটি জরুরি বিধান। এটি কীভাবে ব্যবহার করবেন, তার ওপর নির্ভর করে এর ভালো-মন্দ। তাই বলে ৫৪ ধারা খারাপ, এটা বলা কঠিন। ৫৪ ধারা তখনই প্রয়োগ করা উচিত, যখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মনে করবে, যাঁকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে তিনি একটি অপরাধ করতে যাচ্ছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ৫৪ ও ১৬৭ ধারা সংশোধনের নির্দেশনা দিয়ে সর্বোচ্চ আদালত যে রায় দিয়েছেন, তা যথাযথভাবে পালন করা হবে। পূর্ণাঙ্গ রায় এলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফৌজদারি কার্যবিধিতে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে, পুলিশের কারা ও কীভাবে গ্রেপ্তার করতে পারবেন।শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তারের সময় এ বিষয়টি মানা হয়নি বলে অভিযোগ আছে—সাংবাদিকদের এ কথার পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পরিচয় দিয়েই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া দলপতি কিন্তু পোশাক পরেই গেছেন।
রিট মামলার বিবরণে জানা যায়, ১৯৯৮ সালে রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী থেকে বেসরকারি ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির ছাত্র শামীম রেজা রুবেলকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করা হয়। ওই বছরের ২৩ জুলাই মিন্টো রোডে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) কার্যালয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। প্রায় একই সময়ে সীমা চৌধুরী নামের এক তরুণী চট্টগ্রামের রাউজানে পুলিশ হেফাজতে ধর্ষণের শিকার হন ও পরে মারা যান এবং অরুণ চক্রবর্তী নামের এক যুবক রাজধানীর রমনা থানায় পুলিশ হেফাজতে মারা যান।
পুলিশ হেফাজতে রুবেলের মৃত্যুর পর বিচারপতি হাবিবুর রহমান খানের নেতৃত্বে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করে সরকার। কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদনে ৫৪ ও ১৬৭ ধারা সংশোধনের পক্ষে ১১ দফা সুপারিশ করা হয়। কিন্তু এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় ৫৪ ও ১৬৭ ধারা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করে মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন, অরুণ চক্রবর্তীর স্ত্রীসহ কয়েকজন বরেণ্য ব্যক্তি।
ওই রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০০৩ সালের ৭ এপ্রিল বিচারপতি মো. হামিদুল হক ও বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ছয় মাসের মধ্যে ৫৪ ও ১৬৭ ধারা সংশোধনের জন্য সাত দফা সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে আদালত ১৫ দফা নির্দেশনা দিয়ে রায়ে বলেন, আইন সংশোধনের আগেই এই ১৫ দফা নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।
হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি চেয়ে (লিভ টু আপিল) রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করলে ২০০৪ সালে তা মঞ্জুর হয়। তবে হাইকোর্টের নির্দেশনা আপিল বিভাগ স্থগিত করেননি। পরে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে। চলতি বছরের ২২ মার্চ রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের ওপর শুনানি শুরু হয়, ১৭ মে শেষ হয়। ওই দিন আপিল বিভাগ রায় ঘোষণার জন্য গতকাল দিন ধার্য রেখেছিলেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, এখন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়ের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। আপিল বিভাগ যেসব নির্দেশনা দেবেন, তার আলোকে আশা করি সরকার পদক্ষেপ নেবে। আসামিদের ধরার বিষয়ে কী কী করতে হবে, এ নিয়ে আদালতের নির্দেশনাগুলো বিবেচনায় নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারকে সামনের দিকে এগোতে হবে। তিনি বলেন, সব সময় আগে থেকে মামলা করে আসামি ধরা যায় না। অপেক্ষা করে বসে থাকলে আসামি পালাবে। যেমন যুদ্ধাপরাধী আবুল কালাম আজাদ গ্রেপ্তারের নির্দেশ শুনে পালিয়েছেন। একেক ঘটনায় একেক ধরনের পদক্ষেপ নিতে হয়। তবে যেটাই নেওয়া হোক না কেন, তা আদালতের নির্দেশের আলোকে নিতে হবে। আদালতও আশা করি বাস্তব অবস্থা বিবেচনা করবেন।
প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে রুবেলের বড় ভাই ইফতেখার উদ্দীন প্রতিবেদককে বলেন, ‘৫৪ ধারা একটি কালো আইন এবং আমরা ভেবেছিলাম আদালত এটি বিলুপ্ত করবেন। রুবেল মারা গিয়েছিল আটকের দেড় ঘণ্টার মধ্যে। পুলিশকে তাই গ্রেপ্তারের কারণ জানাতে তিন ঘণ্টা সময় দেওয়ার প্রয়োজন ছিল না।’ ##

Be Sociable, Share!
বিভাগ: অপরাধ (ক্রাইম), প্রধান খবর - ১, মুক্ত কলাম, রাজনীতি

এখনো কোন মন্তব্য করা হয়নি.

মন্তব্য করুন

*