• ঢাকা
  • শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০২:২৩ পূর্বাহ্ন

অতিরিক্ত ডিআইজি রফিকুল ইসলাম শিমুলের বাবার মুক্তিযোদ্ধা সনদ ও গেজেট বাতিল করেছে জামুকা


প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ১৪, ২০২৫, ৮:৪৮ অপরাহ্ন / ২২৮
অতিরিক্ত ডিআইজি রফিকুল ইসলাম শিমুলের বাবার মুক্তিযোদ্ধা সনদ ও গেজেট বাতিল করেছে জামুকা

কে এম সাইফুর রহমান, গোপালগঞ্জঃ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি রফিকুল ইসলাম শিমুলের বাবার মুক্তিযোদ্ধা সনদ ও গেজেট বাতিল করেছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল ২০২২ (২০২২ সনের ১৫নং আইন) এর ৬(গ) ধারা এবং Rules of Business 1996 এর Schedule -1(Allocation of Business) এর ক্রমিক নং ৪১, এন্ট্রি নং ৫-এ প্রদত্ত ক্ষমতা বলে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল এর ১০১তম সভার আলোচ্যসূচি ০৩-এর সিদ্ধান্ত মোতাবেক ৪৮.০০.০০০০.০০৪.০৩৭.০০২০.২৫-১৫১ নং স্মারকে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইককান্দী ইউনিয়নের সিরিয়াল নং- ২৪, গেজেট নং – ১১৪২, মৃত গফুর শেখের ছেলে মৃত আঃ রাজ্জাক শেখের গেজেট বাতিল করেছেন। এ ঘটনায় ঐ এলাকায় প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা সহ স্বাধীনতার স্বপক্ষের সাধারণ মানুষ ব্যাপক উল্লাস প্রকাশ করেছেন। দীর্ঘদিন পরে হলেও সরকার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেট প্রকাশ করেছেন। এ সময় তারা ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা কোঠায় সরকারি চাকুরি নেওয়া, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা সহ সকল সুযোগ সুবিধা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত নেওয়ার জোর দাবি জানান।

প্রসঙ্গতঃ প্রাথমিক তথ্যে প্রতীয়মান হয় যে, অতিরিক্ত ডিআইজি রফিকুল ইসলাম শিমুল ভুয়া সনদের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় ব্যবহার করেন। রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করা হয়েছে এবং সেই সনদের ভিত্তিতেই সরকারি চাকুরি অর্জনের পথ সুগম হয়েছে—যা আইনত শাস্তিযোগ্য অপরাধ

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বাংলাদেশ পুলিশ বিভাগের দায়িত্বশীল পদে অধিষ্ঠিত থাকার সময় ক্ষমতার অপব্যবহার, সাধারণ মানুষের প্রতি নির্যাতন, অবৈধ ভূমি দখল এবং ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমান জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত। এসব অভিযোগ যদি নিরপেক্ষ তদন্তে সত্য প্রমাণিত হয়, তবে তা হবে রাষ্ট্রীয় বিশ্বাস ভঙ্গ, সংবিধান ও আইনের সরাসরি লঙ্ঘন।

এ ঘটনায় শুধু সনদ বাতিল যথেষ্ট নয়; ভুয়া পরিচয়ের মাধ্যমে অর্জিত সকল সুবিধা, পদোন্নতি ও সম্পদের বৈধতা পূর্ণাঙ্গভাবে খতিয়ে দেখে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা রাষ্ট্রের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। দৃষ্টান্তমূলক বিচার ছাড়া ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ রোধ করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দরা।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত ডিআইজি রফিকুল ইসলাম শিমুলের সাথে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার কোন বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।