শিরোনাম

বাংলাদেশ-মায়ানমার সম্পর্ক বন্ধুসুলভ হতে হবে

Jewelকামরুল হাসান জুয়েল ॥ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) নিহত সদস্য নায়েক সুবেদার মিজানুর রহমানের লাশ গত শনিবার ফেরত দিয়েছে মায়ানমারের সীমান্ত রক্ষীবাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি)। গত বুধবার বিনা উসকানিতে বিজিপি গুলি ছুড়লে মিজান নিহত হন। তার মৃতদেহ বিজিপি নিয়ে যায়। নিহত মিজানকে তারা মায়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের (আরএসও) সদস্য বলে অপপ্রচার চালায়। মিজানের মৃত্যুর পর তার মৃতদেহ ফেরত না দিয়ে গত শুক্রবার আবার বিজিবি সদস্যদের ওপর গুলি চালায় বিজিপি। গুলি, পাল্টাগুলিতে বিজিবির অন্তত দুজন আহত হয়। পরে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের পর মিজানের মৃতদেহ ফেরত দেয়া হলেও তার অস্ত্র ফেরত দেয়া হয়নি। মায়ানমার সীমান্তে সেনা সমাবেশ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এসব ঘটনায় মায়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের সঙ্গে মায়ানমারের সীমান্ত মাত্র ১৮৮ কিলোমিটার। আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র বলতে ভারত আর মায়ানমার। তবে বাস্তবতা হচ্ছে মায়ানমার কখনই বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিবেশীসুলভ আচরণ করেনি। এর দায় মূলত মায়ানমারের জান্তা সরকারগুলোর। অং সান সুচির মুক্তির মধ্য দিয়ে দেশটিতে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির সূচনা হবে বলে আশা করেছিল বিশ্ববাসী। কিন্তু সুচির মুক্তির পর মায়ানমারে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কারণে বাংলাদেশে ব্যাপকসংখ্যক রোহিঙ্গা মুসলিমদের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। মায়ানমারে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ভার বইতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। গত কয়েক মাস ধরে বিজিপি বিনা উসকানিতে অনেকবার সীমান্তে গুলিবর্ষণ করেছে। বিজিবির পক্ষ থেকে পতাকা বৈঠক আহ্বান করে এর কারণ জানতে চাইলে বিজিপি গুলিবর্ষণের কথা অস্বীকার করে। মায়ানমারের সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর এই আচরণ সদাচারী প্রতিবেশীসুলভ নয়। প্রতিবেশী একটি দেশের একজন সীমান্তরক্ষীকে বিচ্ছিন্নতাবাদী বলে অপপ্রচার চালানোও সঙ্গত নয়। এতসব অসঙ্গত আচরণ করেই ক্ষান্ত হয়নি দেশটি। তারা এখন আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে সীমান্তে সেনা সমাবেশ করছে।

বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্ত ছোট হলেও উপেক্ষণীয় নয়। ছোট্ট এই সীমান্তটিই রোহিঙ্গা সমস্যার মতো জটিল সমস্যার সৃষ্টি করেছে। কাজেই বাংলাদেশের স্বার্থেই দুদেশের শীতল সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করতে হবে। মায়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক উষ্ণ করতে দুই দেশের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে খোলা মন নিয়ে আলোচনা করে সমসার সমাধান করতে হবে। পতাকা বৈঠক করে দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলবে না। মায়ানমারকে এ বার্তা পৌঁছে দেয়া জরুরি যে, বাংলাদেশ কোন ষড়যন্ত্রভূমি নয় যে, এখানে অন্য একটি দেশের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়া হবে। বরং বাংলাদেশ মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে। রোহিঙ্গা সমস্যার সৃষ্টি বাংলাদেশ করেনি। এর জন্য দায়ী মায়ানমারের অভ্যন্তরীণ সাম্প্রদায়িক রাজনীতি। বাংলাদেশে আরএসও-এর ঘাঁটি রয়েছে এমন হাওয়াই অভিযোগ করলে মায়ানমারের চলবে না। তাদের উচিত বাংলাদেশের মতো উদার ও সহনশীল প্রতিবেশীর প্রতি গুলিভর্তি বন্দুকের নল না বাড়িয়ে বন্ধুত্বের উষ্ণ হাত বাড়ানো। বাংলাদেশের নীতিনির্ধারক পর্যায় থেকে এই আলোকে মায়ানমারের সঙ্গে অর্থবহ আলোচনা করে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের সূচনা করা যেতে পারে। প্রতিবেশীর যুদ্ধংদেহী সম্পর্ক কোন দেশের জন্যই মঙ্গলজনক নয়।##

(সূত্র:সংবাদ)

Be Sociable, Share!
বিভাগ: অতিথি কলাম

এখনো কোন মন্তব্য করা হয়নি.

মন্তব্য করুন

*