শিরোনাম

দেশের আন্ডারওয়ার্ল্ডে ‘এমকে-স্নাইপার রাইফেল’ ; দেড় কিমি টার্গেট কিলিংয়ের জন্য ফলপ্রসু এ আগ্নেয়াস্ত্র !

jmbশংকর কুমার দে ॥  জঙ্গী তৎপরতায় উদ্বেগের সঙ্গে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ‘এমকে-স্নাইপার রাইফেল’। এ ধরনের উন্নত অত্যাধুনিক মার্কিন আগ্নেয়াস্ত্র এর আগে আর পাওয়া যায়নি দেশের আন্ডারওয়ার্ল্ডে। অন্তত দেড় কিমি দূর থেকে টার্গেট কিলিংয়ের জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসু এ আগ্নেয়াস্ত্র। দেশে প্রথমবারের মতো জেএমবি আস্তানায় পাওয়ার ঘটনাটি উদ্বিগ্ন করে তুলেছে গোয়েন্দাদের। অত্যাধুনিক এ উন্নত আগ্নেয়াস্ত্রের যোগান, অর্থের উৎস, নেপথ্য মদদদাতা কারা তা খুঁজে বের করার জন্য তদন্ত শুরু করেছে গোয়েন্দা সংস্থা।
গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, টার্গেট কিলিংয়ের ধরন পরিবর্তনে জেএমবি এবার স্নাইপার রাইফেল সংগ্রহের অসম্ভব কাজটি সম্ভব করে তুলেছে। রবিবার চট্টগ্রামে জেএমবির আস্তানা থেকে সেনাবাহিনীর পোশাক, বিস্ফোরক, স্নাইপার রাইফেল উদ্ধারের পর বিস্ময় প্রকাশ করেছেন গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারাও। চট্টগ্রামে জেএমবির আস্তানা থেকে উদ্ধার করা একটি এমকে-১১ স্নাইপার রাইফেলের সঙ্গে ২৫০ রাউন্ড গুলি, দুই কেজি জেল এক্সপোসিভ, ১০ ডেটোনেটর, বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম, ১৪ সামরিক পোশাক, নেমপ্লেট ও ব্যাজ, র‌্যাংক। উদ্ধারকৃত সাংগঠনিক বিভিন্ন নথিপত্র পর্যালোচনা করে এবং আটক ৩ জেএমবি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গোয়েন্দা সংস্থা নিশ্চিত হয়েছে, জেএমবির চট্টগ্রামে ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলার পরিকল্পনা করেছিল বলে মনে করা হচ্ছে।
গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষ নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়ে এখন আগের চেয়ে বেশি সচেতন হওয়ায় জেএমবি এবার দূরবর্তী স্থান থেকে আঘাত হানার উদ্দেশে এসব স্নাইপার রাইফেল সংগ্রহ করেছে। ফেসবুক, ভাইবার, ইন্টারনেটসহ প্রযুক্তি নির্ভরতার পাশাপাশি আধুনিক অস্ত্র ও বিস্ফোরক সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে জেএমবি। জঙ্গী সংগঠনগুলো ড্রোন, মোবাইল জ্যামার, বাইসাইকেল বোমা, ডিজিটাল ম্যাপ, কেমিক্যাল বোমা ব্যবহার করার পর এখন স্নাইপার রাইফেলের সন্ধান মিলল।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটান পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (ডিবি) বাবুল আকতার বলেছেন, আমেরিকার সৈন্যরা পাকিস্তানে আল কায়েদার প্রধান ওসামা বিন লাদেনকে হত্যার সময় এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করেছে। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো উদ্ধার করা এমকে-১১ স্নাইপার রাইফেল যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি সেমি অটোমেটিক রাইফেলটি নিখুঁতভাবে দূরবর্তী বস্তুর ওপর আঘাত হানতে সক্ষম। এটা সাধারণত মার্কিন বিশেষ বাহিনী নেভি সিল ব্যবহার করে। এমকে-১১ সেমি অটোমেটিক স্নাইপার রাইফেলের নিশানা অত্যন্ত নিখুঁত। এর কার্যকরী রেঞ্জ ১৫০০ গজ এবং প্রতি মিনিটে ৭৫০ রাউন্ড গুলি ফায়ার করা সম্ভব। এ রাইফেল খোলাবাজারে বিক্রি হয় না। এ রাইফেল জঙ্গীদের হাতে এলো কিভাবে? জঙ্গীরা টার্গেট কিলিংয়ের জন্য এ রাইফেল ব্যবহার করত। এটিই যে একটিমাত্র রাইফেল জেএমবির হাতে- এমনটি ভাবলে চলবে না। বিশিষ্ট ব্যক্তিদের হত্যার উদ্দেশে জেএমবি এ স্নাইপার রাইফেল সংগ্রহ করে থাকতে পারে বলে মনে করেন সিএমপির এ কর্মকর্তা।## (  জনকন্ঠে প্রকাশিত হুবহু)
Be Sociable, Share!
বিভাগ: অতিথি কলাম, প্রধান খবর - ১, বিশেষ প্রতিবেদন

এখনো কোন মন্তব্য করা হয়নি.

মন্তব্য করুন

*