শিরোনাম

কুমিল্লার কলেজছাত্রী তনুর মৃত্যুটি ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় হয়েছে বলে আন্দোলনের ছক আসছে লন্ডন থেকে !

আজকের বিডি ডেস্ক : সাংবাদিকদের কখনও কখনও স্রোতের বিপরীতে দাঁড়াতে হয়। এ বিপরীতে দাঁড়ানোর অন্যতম কারণ, তথ্য। যখন স্রোতের বিপরীতের তথ্য সাংবাদিকদের কাছে পৌঁছায় তখন জনপ্রিয়তা হারানোর ও গালমন্দ খাওয়ার সকল ঝুঁকি নিয়েও সত্য তথ্যের সপক্ষে সাংবাদিককে দাঁড়াতে হয়।

কুমিল্লার কলেজছাত্রী তনু হত্যার পর তার বিচারের দাবিতে দেশের নানান স্থানে বিক্ষোভ হচ্ছে। তনু হত্যার বিচারের দাবি সকলের। একজন সাংবাদিকও সমাজের একজন নাগরিক, তাই সে হিসেবে এই দাবির বাইরে তিনি যেতে পারেন না। আবার একজন পিতা হিসেবে তনুর মৃত্যুর শেল বুকে বিঁধবে এটাই সত্য। কয়েকদিন আগে টেলিভিশনে একটি সংবাদ দেখে আমাকে সারাদিন অনেকে ফোন করেন, তাদের ভেতর কেউ কেউ বলেন, তোমার মন ভারি কেন? তাদের বলি, বিশ্বাস করুন যে সংবাদ দেখে আপনারা আমাকে ফোন করছেন, এতে মন খারাপের কিছু নেই। কারণ এটা একজন সাংবাদিকের পার্ট অব লাইফ। তাছাড়া রাজপথে গুলি চলছে সে সময়েও মৃতের পকেট থেকে নোটবুক বের করে তাঁর বাড়িতে সংবাদ পৌঁছেছি। কার্ফু পাস ছাড়াও কার্ফুর ভেতর রিপোর্টিং করেছি। তাই এগুলো খুবই স্বাভাবিক। মনটা আসলে ভারি তনুর মৃত্যুর খবরটা বার বার শুনে। ব্যক্তি জীবনে আমার কোন মেয়ে নেই- তাই স্বাভাবিকভাবে দুই বিঘার পরিবর্তে বিশ্ব নিখিল আমার। কন্যাসম সবাইকে নিজ কন্যা মনে করি। এদের ভেতর কেউ যদি পিতার মতো মনে করে তখন বুকটা ভরে ওঠে। তাই তনু হত্যার বিচার নিয়ে যে প্রতিবাদ হচ্ছে এই প্রতিবাদের প্রতি মন থেকে সায় ছিল। আবার এখনও চাই প্রতিবাদ হোক, বিচার হোক।tonu murder

তবে যে তথ্য একদিন পর মিলল, তাতে মনে করি দেশবাসীকে একটু সাবধান হয়ে এই প্রতিবাদ করা উচিত। কারণ, তনুর মৃত্যুটি ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় হয়েছে বলে এই মৃত্যুকে কাজে লাগানোর জন্য একটা অশুভ চক্র ইতোমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে। তাই এই যে প্রতিবাদ হচ্ছে এর একটি অংশ যেমন স্বতঃস্ফূর্ত আবার একটি অংশকে বড় অঙ্কের অর্থ যোগান দেয়া হচ্ছে। এই অর্থ যোগান দেয়ার নির্দেশ ও আন্দোলনের ছক আসছে লন্ডন থেকে।

লন্ডন থেকে নির্দেশ ও আন্দোলনের ছক আসছে আর তা এখানে বাস্তবায়ন করছে এক বড় ব্যবসায়ীর দুই ছেলে। তারা ইতোমধ্যে প্রতিবাদকে একটি নষ্ট খাতে অর্থাৎ তনু হত্যার বিচারের থেকে সরকারবিরোধী আন্দোলন এবং রাজনৈতিক সরকার ও প্রশাসনের ভেতর দূরত্ব সৃষ্টির চেষ্টা করছে এবং এই অঢেল অর্থের কারণেই কিন্তু আন্দোলনের ভেতর একটি অংশ এটাকে সরকারবিরোধী আন্দোলনের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। অনেকে আবোল-তাবোল অনেক কথাই বলছেন। বাস্তবে এরা কিন্তু সকলে বার্ডস অব সেম ফিদার ফ্লক টুগেদার। কেউ বিচ্ছিন্ন নয়।

লন্ডন ছকের এই আন্দোলন মূলত তনু হত্যার মূল রহস্য যাতে দেশ ও দেশবাসী অবহিত হতে না পারে এবং শেষ অবধি আন্দোলনটি যেন সরকারবিরোধী আন্দোলন হয়। তাদের কাছে একটি পরিবারের কান্না ও প্রকৃত বিচার পাওয়া কিন্তু কোন বিষয় নয়।

তাই সরকারসহ দেশের মানুষের উচিত হবে, যাতে তনু হত্যার প্রকৃত বিচার হয়। প্রধানমন্ত্রী যে বিচারের কথা বলেছেন, সেই বিচার যেন তনুর পরিবার পায়। এছাড়া তনু হত্যাকে কেন্দ্র করে লন্ডনী ছক যাতে বাস্তবায়িত না হয়, ওই ব্যবসায়ীর সন্তানদ্বয়ের টাকায় যারা কাজ করছেন, কথা বলছেন তারা যেন ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের সুযোগ না পান।

(প্রকাশিত : জনকন্ঠ , লেখক : স্বদেশ রায়

Be Sociable, Share!
বিভাগ: অতিথি কলাম, প্রধান খবর - ২

এখনো কোন মন্তব্য করা হয়নি.

মন্তব্য করুন

*